এই দুনিয়ায় কোন কিছুই অসম্ভব নয়। তাও লোকেরা যেন নিজের লক্ষ্য পূরণ করতে পারে না। যদি মন থেকে কিছু চাওয়া হয় তাহলে নাকি তারারাও তাদের জায়গা ছেড়ে দেয়। তো বন্ধুরা আজ আমি যার সম্পর্কে বলতে চলেছি তিনি পুরো জীবনটাই সংঘর্ষ করে কাটিয়েছেন। এমনকি অসফলতার বিভিন্ন অসুবিধার মধ্যে দিয়েও তিনি নিজের চেষ্টা চালিয়ে যান। এবং তিনি অন্তিম কিছু মুহূর্তে সফলতার স্থান দখল করেন যেটা শুনে আপনারা যে কেউ হয়তো আঙুল কামড়াবেন। বন্ধুরা আজ আমি কথা বলতে চলেছি, কেএফসি অর্থাৎ কেন্টাকি ফাইড চিকেনার ফাউন্ডার কারনাল স্যান্ডার্সের সম্পর্কে। যিনি মাত্র পাঁচ বছর বয়সে তার পিতাকে হারিয়ে ফেলে এবং ঘরের অবস্থা এমনই হয় যে মাত্র 7 বছর বয়সেই তার উপর তার ভাই ও বোনের দায়িত্ব চলে আসেন। চাকরির খোঁজে ও তখন দরজায় দরজায় যায়, এমনকি বিয়ের পর তার স্ত্রীও তাকে ছেড়ে চলে যায়। বিজনেস স্টাট করলে সেটাও বন্ধ হয়ে যায়। 65 বছর পর্যন্ত তিনি নিজের প্রয়োজনে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়ায়। কিন্তু তারপর তিনি এক প্রচেষ্টার মাধ্যমে এমন এক কোম্পানি বানিয়ে ফেলেন, যার শাখা দুনিয়ায় 118টি বেশি দেশে রয়েছে। আর প্রত্যেক বছর এই কোম্পানি কোটি কোটি টাকা ইনকাম করে। তো আপনিও যদি আপনার জীবনে আশা অসফলতা দেখে চিন্তাগ্রস্থ হয়ে পড়েছেন তাহলে এই পোষ্টটি অবশ্যই শেষ পর্যন্ত পড়তে থাকুন , তো চলুন আর কোন সময় নষ্ট না করে আমরা কারনাল স্যান্ডার্সের সংঘর্ষ থেকে সফলতার গল্প পড়ে নেই ।
কারনাল স্যান্ডাসের জন্ম 9 সেপ্টেম্বর 1890 সালে ইন্ডিয়ান এক শহর হেন্দিভাইলো হয়েছিল । তার পিতার নাম ছিল ডেবিট স্যান্ডার্স আর মাতার নাম ছিল মারবেট স্যান্ডার্স । তার একটি ছোট ভাই আর একটা বোন ছিল, তার পরিবারের সবকিছু ভালোই চলছিলো। কিন্তু হঠাৎ গরম কালের সময় অধিক জ্বরের কারণে কারনাল স্যান্ডার্সের পিতার মৃত্যু হয়ে যায়। ওই সময় স্যান্ডার্স কেবল পাঁচ বছরের ছিল । তার পিতার মৃত্যুর পর তাঁর ঘরের আর্থিক পরিস্থিতি খারাপ হতে থাকে । যার জন্য তার মাকে বাইরে ফ্যাক্টরিতে কাজ করতে যেতে হয় । আর স্যান্ডার্সের উপর এত কমবয়সী তার ভাই বোনের দেখাশোনার দায়িত্ব পড়ে যায়। ওই কঠিন পরিস্থিতিতে তার মা তাকে খাবার বানানো শিখিয়ে দিয়েছিলেন । আর মাত্র 7 বছর বয়সেই তিনি রান্না করার দক্ষ হয়ে ওঠেন। রান্না চিকেন শুরু থেকেই পছন্দ ছিল । 1902 সালে স্যান্ডার্সের মা আবার বিবাহ করেন এরপর দরিদ্র পরিবার ইন্ডিয়ান গ্রীনরোড এলাকায় চলে আসেন । স্যান্ডার্সের সৎ পিতা তাকে অনেকটা পছন্দ করতেন না যার ফলে তাদের সম্পর্ক ভালো ছিল না। আর এই কারনেই 1903 সালে স্যান্ডার্স তার ঘর ছেড়ে দেন। এবং এক কৃষকের জমিতে কাজ করা শুরু করে। ঘর ছাড়ার জন্য সপ্তম শ্রেণীতে তার পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায় । 13 বছর বয়সে তিনি ইন্ডিয়ানাপোলিস শহরে চলে আসেন সেখানে তিনি ঘোড়ার গাড়িতে রংয়ের কাজ করতেন কিন্তু কিছুদিন পরেই তিনি ছেড়ে দেন। আর 1906 এ ইন্ডিয়ান নিউওলিতে তার কাকার সাথে থাকতেন , তার কাকা একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে কাজ করতেন এবং তার থেকেই স্যান্ডার্স সেখানে কাজ পেয়ে যায় এর মধ্যেই তিনি রেলওয়েতে ফায়ারম্যান এর কাজ পেয়ে যান ফায়ারম্যান এর কাজ করার সময় তার জোসেফিন নামের এক মেয়ের সাথে দেখা হয়। তার সাথে 1909 সালে প্রায় 19 বছর বয়সে বিয়ে করে ফেলেন। এরপর তাদের একটি ছেলে ও দুই মেয়ে সন্তান হয় তখন এমন মনে হচ্ছিল যে স্যান্ডার্সের জীবন যেন রেলগাড়ি মত দৌড়াতে শুরু করেছে। কিন্তু হঠাৎ তার সহকর্মী সাথে ঝামেলা দরুন তাকে রেলওয়ে চাকরি থেকে বের করে দেওয়া হয়। এবং তার স্ত্রী ও তার ছেলে মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে তাকে ছেড়ে চলে যান । এই ঘটনার দরুন তার মনে অনেক বড় আঘাত লাগে এবং তিনি দিনের-পর-দিন ডিপ্রেশনে চলে যেতে থাকে। কিন্তু তিনি তবুও হার মানেননি নিজেকে সামলে নিয়ে আবার চাকরির খোঁজ শুরু করতে থাকেন। বিভিন্ন কাজ করে তার খাদ্য যোগাড় করা শুরু করেন। তিনি টায়ারের ব্যবসা করতেন এমনকি ইনসিওরেন্সের কার্ড বিক্রি করতেন এই ভাবেই চটজলদি অনেকগুলি কাজে তিনি অংশগ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু সব কাজেই তিনি অসফল হতে থাকেন । 1929 সালে স্যান্ডার্স কেন্টাকি করবীন নামের এক শহরে চলে যায় আর আমেরিকার road-25 এ গ্যাস স্টেশন খোলেন। যাত্রীদের কথায় তিনি গ্যাস স্টেশনের পাশেই একটি রেস্টুরেন্টে খুলে দেন। যেখানে তিনি তার কায়দায় বিশেষভাবে গলানো চিকেন বানাতে থাকেন যেটা লোকেদের কাছে অনেকটাই পছন্দ ছিল। এর জনপ্রিয়তা দেখে তিনি কর্নেল ইউনিভার্সিটি থেকে আট সপ্তাহের হোটেল ম্যানেজমেন্ট কোর্স করেন। স্যান্ডাসের বানানো ফ্রাইড চিকেন সেন্টার গভর্নরের এতই পছন্দ হয় , এদিকে তাকে কালনার নামের উপাধি দেন। তখন থেকেই স্যান্ডার্সের নামের আগে কারনাল যুক্ত হয়। এদিকে 1937 সালে স্যান্ডার্স কেন্টাকিতে আরো অনেক হোটেলের শাখা খোলার চেষ্টা করেন। কিন্তু তারই চেষ্টাও অসফল হয়। আর কিছু বছরের মধ্যে তার হাইওয়ে নির্মাণের জন্য তার চলতে থাকা রেস্টুরেন্ট বন্ধ হয়ে যায়। এর কিছুদিনের মধ্যেই তার সঞ্চিত অর্থ শেষ হয়ে যায়। তার বয়স 62 বছর হয়ে গেছিল তিনি এত বছরে তার পেট ভরানো ছাড়া আর কিছুই করেনি কিন্তু তার চিকেন বানানোর পদ্ধতি উপরে পুরো ভরসা ছিল। মসলা আর প্রেসার কুকার নিয়ে চিকেন তৈরি পদ্ধতি মার্কেটিং করা শুরু করেন এবং তিনি বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে যেতে থাকে কিন্তু সময় খারাপ হওয়ার কারণে সব রেস্টুরেন্টের মালিকরা তাকে রিজেক্ট করে দেয়। তিনি প্রায় 1000 রেস্টুরেন্টে থেকে রিজেক্ট হন । তারপরে গিয়ে তিনি তার প্রথম কাস্টমার পান। আর এরপর থেকেই কারনাল স্যান্ডার্সের কখনো পিছু পদক্ষেপ ফেলতে হয়নি । আর এই ভাবেই পুরো দুনিয়ায় তার চিকেন রেসিপির সাপ পড়ে যায় ।আর আজ দুনিয়ায় 118 বেশি দেশে রয়েছে এই শাখা ।

0 Comments